
বিশেষ প্রতিনিধি :মোঃ শাহিনুর রহমান শাহিন।
বিদেশে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আত্মসাতের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এবার ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোঃ আব্দুল কাদের সজল (৩০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত আব্দুল কাদের সজলের পিতার নাম আব্বাস আলী। তার বাড়ি ঢাকার কদমতলী এলাকার ৫৯৯, ধনিয়া মাজার রোডে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে সে।
ভুক্তভোগী মোঃ শাহিনুর রহমান (৩৮), যিনি মাগুরা সদর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি জানান, ভালো চাকরি ও উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপ যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আব্দুল কাদের সজল তাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখায়। প্রথমে বৈধ উপায়ে ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে তার কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা নেয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, সজল তাকে আশ্বস্ত করে যে খুব দ্রুত নেপাল হয়ে ফ্রান্সে পাঠানো হবে। এজন্য পাসপোর্ট, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ভিসা প্রসেসিংয়ের কথা বলে বারবার টাকা দাবি করা হয়। বিদেশ যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর শাহিনুর রহমান পরিবারের সঞ্চয়, আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার এবং জমি বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করেন।
কিন্তু টাকা নেওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তের আচরণ বদলে যেতে শুরু করে। বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে বিদেশ যাওয়ার তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে যোগাযোগ কমিয়ে দেয় সজল। পরে ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
শাহিনুর রহমান বলেন, “আমি বিদেশে গিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি। ধারদেনার চাপে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, এই প্রতারকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার এমন অভিযোগ নতুন নয়। অনেক সময় সাধারণ মানুষ দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। বিশেষ করে ইউরোপে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে যেতে হলে অবশ্যই সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা উচিত। কোনো ব্যক্তির কথায় বা অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করলে বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। একই সঙ্গে তারা সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন প্রতারণার শিকার না

মন্তব্য করুন