
প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত থেকে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহরে শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এই সামরিক অভিযানের পরপরই তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, কাবুল, পাকতিয়া এবং তালেবানের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কান্দাহারে ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে’ এই হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, কান্দাহারেই তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা অবস্থান করেন বলে ধারণা করা হয়।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে:
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আমাদের ধৈর্যের সীমা শেষ হয়ে গেছে। এখন থেকে আপনাদের (তালেবান) ও আমাদের মধ্যে উন্মুক্ত যুদ্ধ হবে।” মূলত গত বৃহস্পতিবার রাতে আফগান বাহিনীর পক্ষ থেকে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই বড় আকারের অভিযান শুরু করেছে শাহবাজ শরিফ সরকার।
তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন যে, তাদের অভিযানে বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনাকে জীবিত আটক করা হয়েছে। যদিও ইসলামাবাদ এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
গত বছরের অক্টোবর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক চরম অবনতির দিকে যায়। পাকিস্তানের অভিযোগ, তাদের দেশে হামলা চালানো নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে আফগান তালেবান আশ্রয় দিচ্ছে। কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার চেষ্টা চললেও তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো।
গত রোববার রাতেও আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানি হামলায় অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিল বলে জাতিসংঘ মিশন নিশ্চিত করেছে। সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলে এখন চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

মন্তব্য করুন