
ফলাফল রিপোর্ট :
বিদ্যুৎ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরি ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারকে বিপদে ফেলার এক গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব উম্মে রেহানার বিরুদ্ধে। প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী হওয়া, প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং প্রভাব খাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব বাগিয়ে নেওয়ার একাধিক নজির রয়েছে। অতীতে অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি উইংয়ে দায়িত্ব পালনের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে সংসদ সচিবালয়ে বদলি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিগত সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের বিশেষ তদবিরে তিনি বিদ্যুৎ বিভাগে পদায়ন পান। এর আগে তিনি সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বজায় রেখেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগে আরও জানা গেছে, বিদ্যুৎ খাতের চলমান চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা করে এবং সরকারি বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও তিনি মেয়েকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সম্প্রতি পদোন্নতিবঞ্চিত হলেও বিদ্যুৎ বিভাগে তার প্রভাব কমেনি। এছাড়া সাবেক কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট নথির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগও উঠছে তার বিরুদ্ধে।
বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন বিতরণ ও উৎপাদন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং নির্বাহী পরিচালক (ইডি) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অযাচিত হস্তক্ষেপ ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, তার প্রভাব ও বাণিজ্যের কারণেই দীর্ঘদিন ডিপিডিসিতে স্থায়ী এমডি নিয়োগ সম্ভব হয়নি এবং ওজোপাডিকোর নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়েও আর্থিক লেনদেনের গুঞ্জন রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জি-টু-জি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সাথে আঁতাত করে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গুরুত্বপূর্ণ এই সেক্টরে এমন বিতর্কিত কর্মকর্তার অব্যাহত প্রভাব এবং বর্তমান শীর্ষ প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা বিদ্যুৎ খাতকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন