
স্টাফ রিপোর্টার :
আমার দেখা মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সাল। আমার বয়স তখন আনুমানিক ৭-৮ বছর। তেমন কিছুই বুঝিনা। শুধু দেখি মানুষের আনাগোনা, দৌড়াদৌড়ি, ব্যস্ততা এবং মনের ভিতরে আতংক। তখন বাবা-মায়ের কাছে জানতে চাইলাম এসবের কারণ কি ? বাবা-মা বললো পশ্চিম পাকিস্তান শাসন ও শোষণ করে। সব ক্ষেত্রে লাঞ্ছনা-বঞ্চনা ও জুলুম করছে। আমাদের বাড়ি ঢাকা-পাথরঘাটা হাইওয়ের পাশে, গ্রাম-ধানীসাফা, উপজেলা-মঠবাড়ি, জেলা- পিরোজপুর। যুদ্ধ চলাকালীন সময় একদিনের একটি ঘটনা। দিনটা ঠিক কবে বলতে পারব না তারিখটা কত তারিখ। এদিন দেখি রাস্তায় অনেক লোক পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে যাচ্ছে। তাদের কারো কারো পরনে শুধু লুঙ্গি এবং গেঞ্জি। খালি গা কোমরে গামছা বাঁধা। তাদের চেহারা দেখে মনে হয় তারা ক্ষুধার্ত। আমার বয়স থেকে দুই তিন বছরের বড় তারা জিজ্ঞাসা করল তোমরা কারা? তারা উত্তর দিল আমরা মুক্তিযোদ্ধা। আমরা দলে ৭৫০ জন আছি। আমরা ভারতে ট্রেনিং করে সুন্দরবন হয়ে আসছি। পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রতিরোধ করার জন্য। পরের দিন স্কুলে গেলাম এবং দেখলাম বসে তারা চিড়া, মুড়ি, কলা যা কিছু পেয়েছে তাই খেয়ে তারা গন্তব্যে চলে গেছে। তাদের মনের আসা জাতির মুক্তি। দেশের মানুষের মুক্তি। আমি পেশায় একজন তিন বাহিনির ঠিকাদার এখন বুঝি একটি সুসজ্জিত বাহিনীর সামনে দাঁড়ানো এবং প্রতিরোধ করা মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই না। দেশকে পাকিস্তানিদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্যই তারা জীবন বাজি রেখেছিল এবং তারা তা পেয়েছে।
মোঃ জিয়াউল হক
হাতিরঝিল প্রভাতী সংঘ
সদস্য নং-৫১৬

মন্তব্য করুন