ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম হলো জাকাত। এটি কেবল দান নয়, বরং ধনীর সম্পদে দরিদ্রের অধিকার। পবিত্র কুরআনের সুরা তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে জাকাত ব্যয়ের ৮টি নির্দিষ্ট খাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সঠিক ব্যক্তিকে জাকাত না দিলে এই ফরজ ইবাদত আদায় হয় না।
যাদের জাকাত দেওয়া যাবে (হকদার):
অভাবী ও নিঃস্ব: যার কাছে একদিনের খাবার নেই বা নিসাব পরিমাণ (সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমমূল্য) সম্পদ নেই।
ঋণগ্রস্ত: যার ঋণ পরিশোধ করার পর নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকে না।
মুসাফির: নিজ এলাকায় ধনী হলেও সফরে এসে বিপদে পড়ে টাকা-পয়সা হারানো ব্যক্তি (প্রয়োজন অনুযায়ী)।
দ্বীনদার দরিদ্র: যারা অভাবী কিন্তু লোকলজ্জায় হাত পাতেন না। তবে গুনাহের কাজে ব্যয় করবে না এমন সাধারণ অভাবীকেও দেওয়া যাবে।
উপযুক্ত আত্মীয়: নিজের ভাই-বোন, চাচা-মামা, ফুফু-খালা এবং ভাগনে-ভাতিজাদের জাকাত দেওয়া উত্তম (যদি তারা অভাবী হন)।
যাদের জাকাত দেওয়া যাবে না:
উর্ধ্বতন ও অধস্তন বংশধর: নিজের বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি এবং ছেলে-মেয়ে বা নাতি-নাতনিকে জাকাত দেওয়া যাবে না।
জীবনসঙ্গী: স্বামী স্ত্রীকে বা স্ত্রী স্বামীকে জাকাত দিতে পারবেন না।
ধনী ব্যক্তি: যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ বা অতিরিক্ত আসবাবপত্র আছে।
অমুসলিম: জাকাত কেবল মুসলিমদের হক। তবে অমুসলিমকে নফল দান বা সদকা করা যাবে।
পারিশ্রমিক হিসেবে: গৃহকর্মী বা কর্মচারীকে বেতন হিসেবে জাকাতের টাকা দেওয়া জায়েজ নয়। তবে অভাবী হলে বেতনের বাইরে অতিরিক্ত হিসেবে দেওয়া যাবে।
মনে রাখা জরুরি:
১. মালিকানা নিশ্চিত করা: জাকাতের টাকা দিয়ে রাস্তা, সেতু নির্মাণ বা সরাসরি মসজিদ-মাদ্রাসা ভবন নির্মাণ করা যাবে না। ব্যক্তিকে এর মালিক বানিয়ে দিতে হবে।
২. নিয়ত: টাকা দেওয়ার সময় মনে মনে জাকাতের নিয়ত থাকলেই আদায় হয়ে যাবে, মুখে বলার প্রয়োজন নেই।
৩. জনকল্যাণমূলক কাজ: ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন বা ওয়াজ মাহফিলের খরচে জাকাতের টাকা ব্যয় করা যাবে না।
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ধর্ম ও জীবন
জাকাত কাদের দেবেন আর কাদের দেবেন না: জরুরি মাসায়েল